সব্যসাচী দত্ত
উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র সারিন্দা। সারিঞ্জা নামেও পরিচিত। যার সুরেলা ধ্বনি মনকে আবিষ্ট করে তোলে। তুক্ষ্যা, ভাওয়াইয়া গানের শরীর ভরিয়ে তোলে সারিন্দার ছড়ের যত্ন। সেই মাদকতা পেরিয়ে সারিন্দাকে অনন্য করে তুলেছিলেন মঙ্গলাকান্ত রায়। সে যেন তাঁর শরীর, মন, রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। ময়নাগুড়ির চারের বাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দা মঙ্গলাকান্ত সারিন্দা হাতে তুলে নিয়েছিলেন তাঁর পাঁচ বছর বয়সের সময়ে। তাকে আর কাছছাড়া করেননি আমৃত্যু। অসুস্থ কালেও বুকে নিয়ে শুয়েছিলেন। রসিক এই শিল্পী সারিন্দায় বিভিন্ন সুর বাজাতেন যার সঙ্গে প্রকৃতির নিবিড় ভালোবাসা। তাঁর হাতের জাদুতেই গড়ে উঠতো সুরের রামধনু। যার সাতরঙে রাঙা হতো চারিপাশ। মানুষের অফুরান ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। ভারত সরকার তাঁকে পদ্ম সম্মানে ভূষিত করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বঙ্গরত্ন সম্মান প্রদান করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তাঁর প্রতি।
তাঁর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল ভারী মিষ্টি। দাদু-নাতির সম্পর্ক যেমন হয়! অনেক সময়ই একই অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছে। আমাদের মূকাভিনয়ের পারফরমেন্স তিনি পছন্দ করতেন। এমন হয়েছে, অনুষ্ঠান করবার পর জিজ্ঞাসা করেছি কেমন লাগলো? তিনি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে হেসে বলতেন, সুন্দরীদের নিয়ে দল করছিস, ভালো না হয়্যা পারে! তারপর নিষ্কলুষ শিশুর মতো হেসে উঠতেন। প্রণাম করতে গেলে বুকে জড়িয়ে ধরতেন। তাতে থাকতো অপার স্নেহ ও প্রাণভরা আশীর্বাদ। আজ এই অবসরে মনে পড়ছে বাংলা ঢোলের জাদুকর বলরাম হাজরার কথাও। তাঁর সঙ্গেও খুব মিষ্টি একটা সম্পর্ক ছিল। একে একে না ফেরার দেশে চলে যাচ্ছেন এই মধুর মানুষগুলি। সুরের অনন্তলোকে তাঁরা ভাল থাকুন এই কামনা করি।
Have an account?
Login with your personal info to keep reading premium contents
You don't have an account?
Enter your personal details and start your reading journey with us
Design & Developed by: WikiIND
Maintained by: Ekhon Dooars Team