× home হোম archive আগের ওয়েব সংখ্যা panorama ডুয়ার্স সম্পর্কে play_circle_filled ভিডিও file_download মুদ্রিত সংখ্যার পিডিএফ library_books আমাদের বইপত্র
people এখন ডুয়ার্স সম্পর্কে article শর্তাবলী security গোপনীয়তা নীতি local_shipping কুরিয়ার পদ্ধতি keyboard_return বাতিল/ফেরত পদ্ধতি dialpad যোগাযোগ
login লগইন
menu
ad01112021081913.jpg
জলপাইগুড়ির বর্ষামঙ্গল-১

কোটি টাকার সংস্কারের পরে ডুবে গেছে রবীন্দ্রভবনের দর্শকাসন, ছাদ ফুটো হয়ে টিপ টিপ বরষা পানি!

সব্যসাচী দত্ত
Jalpaiguri town faces worst situation this rainy season

জলপাইগুড়িকে অনেকে ভালোবেসে জল শহর বলেন। এবার সেপ্টেম্বরের বৃষ্টিতে সে সত্যি সত্যি জলের শহর হয়ে উঠেছিল। তখন আর ভালোলাগার সম্পর্ক থাকে না। পথঘাট বিড়ম্বনায় ফেলে। রাস্তায় রাস্তায় জল। নর্দমার ময়লা দুর্গন্ধ উঠে আসে উঠোনে বারান্দায়, ঘরে। শহরের প্রাণকেন্দ্র কদমতলায় হাঁটুর ওপরে জল। পুরসভার সদস্য যারা আছেন তাঁরা হয়তো অনেক লম্বা। মাথা থাকে উঁচুতে। ওপরের খবর রাখেন সব। পায়ের দিকে তাকানোর অবকাশ পান না। আমি বেঁটে মানুষ, তাই মাটির অনেক কাছে। রাস্তার জলও আমার উঠে আসে কোমরের কাছে। সেই ছোট্ট থেকে দেখে আসছি একটু বেশি বৃষ্টি হলেই শহরে জল জমে যায় চারিপাশে। সেসব জল রয়ে যায় বেশ কিছুদিন। এখন তো শুনি অনেক টাকা নাকি আসে পুরসভার অ্যাকাউন্টে। সেসব টাকাই কি তবে বয়ে যায় নর্দমায়?

ক্যানেল কাটা হ’ল, গদাধর খালের জলবহনের ক্ষমতা বাড়ানো হ’ল, কাচা নর্দমা পাকা হ’ল। সবকিছুই অপরিকল্পিত। কারা যে প্ল্যান বানান কে জানে। না হ’লে কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত রাস্তা আরও কয়েক কোটি টাকা খরচ ক’রে কেটে ছত্রখান করা হয়  জলের পাইপ বসানোর জন্য! টাকা আছে মাটির নিচে, সমতলেও ঘুরে বেড়ায়, আকাশেও নাকি তা ওড়ে। এই বৃষ্টিতে তাই শুধু জল জল আর জল। জলের শহর জলশহর। জলপাইগুড়ি। জলের নিচে চলে যায় শহরের সবচেয়ে বড় বাজার দিনবাজার। জল ঢুকে যায় জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে।

জল বান্ধব নাট্যের প্রেক্ষাগৃহে, রবীন্দ্র ভবনে। অনেক কাল আগে থেকেই দেখি বৃষ্টি হলেই রবীন্দ্র ভবনের প্রেক্ষাগৃহে জল আসে। আমাদের দলের প্রথম মূকনাট্যের অনুষ্ঠান ‘দখিন রায়’এর প্রথম শো। বেশ মনে আছে বৃষ্টি শুরু আগের রাত থেকে। নাগাড়ে চলার পর পরদিন বিকেলে আকাশের মেঘ সরিয়ে সূর্য উঁকি দিলেন আমাদের প্রস্তুতি দেখবেন বলে। আবহ দেবে গোবিন্দ(বাঁশী), প্রধান(দোতরা), বাপী(বাংলা ঢোল) ও সৌভিক(হারমোনিয়াম)। তাদের বসার ব্যবস্থা হয়েছে নিচু চৌকি পেতে মঞ্চের সামনে। আগের তিন দিন মহড়া হয়েছে সেভাবেই। শোয়ের দিন পৌঁছে দেখি সে চৌকি জলের নিচে। পুনরায় উঁচু চৌকির ব্যবস্থা হ’ল। শিল্পীরা তাতে বসলেন। সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। প্রথম দু’টো রোয়ের আসন ছেড়ে দিতে হয়েছে, কারণ পায়ের কাছে জল। সে এক বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা।

এরপর সুখবর পাওয়া গেল। রবীন্দ্রভবনের সংস্কার হচ্ছে কোটি টাকা ব্যয়ে। আনন্দ সংবাদ এলো সংস্কারের পর পায়ের কাছ থেকে জল সরে গেছে। কিন্তু সে আনন্দ ভেসে গেল এবারের এই বরষে, প্রবল হরষে দেখলুম সে জল শুধু পায়া নয়, সংস্কারের পর দু’টি রোয়ের বসার আসনের পুরোটাই জলের নিচে চলে গেছে! সংস্কারের আগে ওপর থেকে জল তো পড়তো না। সংস্কারের পর বৃষ্টির জল ওপরের টিন চুঁইয়ে স্টেজের ওপর এসে পড়ে। কী জানি ইঞ্জিনিয়ারের হয়তো বা টিপ টিপ বরসা পানি… গানটি বড় প্রিয়। ভাবছি পরের নাটকে তাই বৃষ্টিভেজা ‘আইটেম ডান্স’ রাখবো। যার শো কেবল রবীন্দ্র ভবনেই হবে।

(চলবে)

করোনা কালের প্রতিবেদন ফ্রি রিডিং

Disclaimer: Few pictures in this web magazine may be used from internet. We convey our sincere gratitude towards them. Information and comments in this magazine are provided by the writer/s, the Publisher/Editor assumes no responsibility or liability for comments, remarks, errors or omissions in the content.
Copyright © 2026. All rights reserved by www.EkhonDooars.com

Design & Developed by: WikiIND

Maintained by: Ekhon Dooars Team